নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়াইনঘাট (সিলেট):
উপযুক্ত কাঁচামালের অভাব, পুঁজির সংকট এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে সিলেটের গোয়াইনঘাটসহ সারাদেশে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ কুটির শিল্প। নকশী কাঁথা, বাঁশ-বেতের তৈজসপত্র, মৃৎশিল্প ও তাঁতশিল্পের মতো পরিবেশবান্ধব পণ্যগুলো এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। ফলে হাত গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন বংশানুক্রমে এ পেশায় যুক্ত থাকা শত শত কারিগর।
গ্রামীণ অর্থনীতির এই করুণ পরিস্থিতি ও কাঙ্ক্ষিত পৃষ্ঠপোষকতার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সমাজসেবকরা।
এ বিষয়ে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার বৃহত্তর পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও রোটারিয়ান সাংবাদিক এমএ রহিম বলেন, আমাদের গ্রামীণ কুটির শিল্প শুধু একটি পেশা নয়, এটি সিলেটের হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নকশী কাঁথা, বাঁশ-বেতের তৈরি সামগ্রী, মৃৎশিল্প ও তাঁতপণ্যের সঙ্গে আমাদের মানুষের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে উপযুক্ত কাঁচামালের সংকট, পুঁজির অভাব, বাজারজাতকরণের দুর্বলতা এবং আধুনিক শিল্পপণ্যের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতার কারণে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প আজ অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। আমরা যদি এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিই, তাহলে শুধু একটি শিল্পই হারাবে না—হারিয়ে যাবে আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য, দক্ষ কারিগরদের বংশানুক্রমিক জ্ঞান এবং একটি সম্ভাবনাময় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। তাই কুটির শিল্পের কারিগরদের সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ, মানসম্মত কাঁচামালের নিশ্চয়তা এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে এসব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং অনলাইনভিত্তিক বিপণনের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবান মানুষদের সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। গোয়াইনঘাটসহ সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কারিগরদের জন্য বিশেষ সহায়তা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে এই শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। আমাদের ঐতিহ্যকে জাদুঘরে বন্দি না রেখে আধুনিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করে নতুন প্রজন্মের কাছে লাভজনক পেশা হিসেবে তুলে ধরতে হবে। কুটির শিল্প বাঁচলে কারিগর বাঁচবে, আর কারিগর বাঁচলে আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।”
Rubel Ahmed