ঢাকা | বঙ্গাব্দ

গোয়াইনঘাটে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে থানায় অভিযোগ, একাধিকবার সালিশ বৈঠক করেও মিলছে না প্রতিকার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 16, 2026 ইং
গোয়াইনঘাটে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে থানায় অভিযোগ, একাধিকবার সালিশ বৈঠক করেও মিলছে না প্রতিকার ছবির ক্যাপশন: বিরোধকৃত রাস্তার ছবি
ডেক্স নিউজ : 
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের কামাইদ গ্রামে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক কৃষকের বসতবাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। গত ১৪ মে মঙ্গলবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মকবুল হোসেন বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কামাইদ গ্রামের মৃত মুশাহিদ আলীর ছেলে মকবুল হোসেনের সাথে প্রতিবেশী আলা উদ্দিনের ছেলেদের দীর্ঘদিন ধরে জমি ও রাস্তা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। মকবুল হোসেনের দাবি, পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জায়গায় তারা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন এবং বাড়ির পাশের একটি কাঁচা রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করছেন। কিন্তু বিবাদী আনোয়ার হোসেন (৩৫), মামুনুর রশিদ (২৬), হারুন রশিদ (৩৭), জুমান আহমদ (২৩) ও সমছুর উদ্দিন (৫২) উক্ত রাস্তাটি তাদের দাবি করে মকবুল হোসেনের পরিবারকে চলাচলে বাধা প্রদান ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে বর্তমানে আদালতে একটি স্বত্ব মোকদ্দমা (নং-৮৬/২০২৪ ইং) চলমান রয়েছে।

ঘটনার বিবরণীতে বাদী জানান, গত ১৪ মে বিকাল অনুমান ৫টার দিকে বিবাদীগণ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনিভাবে মকবুল হোসেনের বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা সীমানার বাঁশের বেড়া উপড়ে ফেলে এবং বসতঘরের দক্ষিণ পাশের একটি কক্ষ ধারালো দা ও লোহার রড দিয়ে ভাংচুর করে। এসময় ঘরে থাকা পাকা বিল্ডিং নির্মাণের ৪ লক্ষ টাকা মূল্যের সাটারিংয়ের আসবাবপত্র লুটে নেওয়া হয় এবং প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য:
ঘটনাটি নিয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ কামাইদ মৌজাস্থিত সাবেক ৮০০ ও বর্তমান ৯০০ দাগের জমি নিয়ে মালিকানায় জটিলতা রয়েছে। রেকর্ড অনুযায়ী, আলা উদ্দিনের নামে ১৭ শতাংশ জায়গার বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। অন্যদিকে, মকবুল হোসেনের পিতা মৃত মুশাহিদ আলী উমেশ চন্দ্র দাসের ওয়ারিশ সুমন্ত দাসের কাছ থেকে ২ শতক ৪৬ পয়েন্ট জায়গা ক্রয় করেছিলেন। তবে সার্ভেয়ারের মাধ্যমে একাধিকবার পরিমাপে দেখা যায়, মুশাহিদ আলী যে রাস্তাটি ব্যবহার করছেন, সেটি মূলত আলা উদ্দিনের ১৭ শতক জায়গার ভেতরে পড়েছে। স্থানীয় মুরব্বি ও সালিশি ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে চলাচলের জন্য রাস্তার স্বার্থে আলা উদ্দিনের ১৭ শতক জায়গা থেকে ১ শতক জায়গা ৩৬ হাজার টাকার বিনিময়ে মকবুল হোসেনের কাছে বিক্রি করা হবে। কিন্তু সম্প্রতি একটি সালিশ বৈঠকে আদালতের কাগজ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, যার ফলে কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই অমীমাংসিত বিরোধের জের ধরেই সর্বশেষ এই হামলা ও ভাংচুরের ঘটনাটি ঘটেছে। বর্তমানে এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ প্রাপ্তির পর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : Rubel Ahmed

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
গোয়াইনঘাটবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন ওসি মনির

গোয়াইনঘাটবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন ওসি মনির