নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের গোয়াইনঘাটে জমি ক্রয় করে স্থানীয় একটি ভূমিখেকো চক্রের লালসা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন ফ্রান্স প্রবাসী শাহীন আলম ও তাঁর পরিবার। প্রবাসীর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ভিটাবাড়িতে পানি ব্যবহারের জন্য নলকূপ (টিউবওয়েল) বসাতেও বাধা দিচ্ছে ওই চক্রটি। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ভোগান্তিতে দিন কাটছে প্রবাসী পরিবারের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়াইনঘাট উপজেলার পান্তুমাই (আহারকান্দি) গ্রামের আবদুল মালিক ও আনোয়ারা বেগমের পুত্র ফ্রান্স প্রবাসী শাহীন আলম দুটি পৃথক দলিলের মাধ্যমে গোয়াইনঘাট সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে মোট ১৯.৬৬ (সাড়ে উনিশ শতকের বেশি) জায়গা ক্রয় করেন। ক্রয়কৃত জমির বিবরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:
প্রথম দলিল: গোয়াইন মৌজার ১২১ নং জে.এল স্থিত ৫০৩ ও ৫০৪ দাগের ১৬ শতক জায়গা। (দলিল নং: ২০৮৫, তারিখ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ইং, নামজারী খতিয়ান নং: ২০২৬-১০০০১)। এই ১৬ শতক জায়গায় শাহীন আলমের পরিবার দখলে রয়েছে।
দ্বিতীয় দলিল: একই মৌজার এসএ খতিয়ান নাম্বার ৭৫, বিএস সাফা ৫৯৯, বিএস নামজারি ৮২৪, দাগ নম্বর ২৯৫, বিএস সাফা ৫০১ দাগে, আছরাউরা ০.০৩৬৬ (তিন শতক ছেষট্টি পয়েন্ট) জায়গা যা গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে স্থানীয় মো. মুহিবুর রহমান ও মো. খয়রুল আলমের নিকট থেকে ১৩ লক্ষ টাকা মূল্যে সাব্যস্ত করে ক্রয় করেন শাহীন আলম।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ক্রয়কৃত ১৯.৬৬ শতক জায়গার মধ্যে ১৬ শতক জায়গা দখলে পেলেও অবশিষ্ট ৩.৬৬ শতক জায়গা বুঝিয়ে দিচ্ছে না একটি স্বার্থান্বেষী মহল। শাহীন আলম প্রবাসে থাকার সুবাদে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র তাঁর পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছে। এমনকি ওই চক্রটির বাধার কারণে পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পানির চাহিদা মেটাতে একটি নলকূপও বসাতে পারছে না পরিবারটি। নলকূপ বসাতে গেলে চক্রের সদস্যরা এসে সরাসরি কাজে বাধা প্রদান করে। প্রবাসী শাহীন আলমের পরিবার তীব্র ক্ষোভ ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, "আমরা আমাদের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে বৈধভাবে জমি কিনেছি। অথচ স্থানীয় একটি চক্র আমাদের নিজেদের জায়গায় পানি খাওয়ার জন্য একটা টিউবওয়েল পর্যন্ত বসাতে দিচ্ছে না। আমরা প্রবাসে থাকি বলে আমাদের এভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোন সমাধান পাচ্ছি না। আমরা আমাদের ক্রয়কৃত বাকি জায়গার দখল ও এই সমস্যার একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও স্থায়ী সমাধান চাই।"
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ৩.৬৬ শতক জায়গার বিক্রেতা মুহিবুর রহমান ও খয়রুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ভিন্ন দাবি করেন। তারা জানান, তারা গোয়াইন গ্রামের হেলাল আহমদের কাছ থেকে একই মৌজার ৫০১ দাগে তিন জনে সাড়ে পাঁচ শতক জায়গা ক্রয় করেছিলেন। তার মধ্যে দুই জনের অংশ অর্থাৎ ৩.৬৬ শতক জায়গা প্রবাসী শাহীন আলমের কাছে বিক্রি করেছেন এবং তাকে দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন। বিক্রেতারা আরও দাবি করেন, "গত ১৬ জুলাই স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, মানবাধিকার কর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে আমরা আবার পুনরায় উক্ত জায়গায় খুঁটি বসিয়ে শাহীনের পরিবারকে দখল বুঝিয়ে দিয়েছি। দখল বুঝিয়ে দেওয়ার পরও শাহীন আলম আমাদের ওপর মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।"
এই বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভূমিদস্যুদের হাত থেকে তাঁদের সম্পদ রক্ষা করা প্রশাসনের দায়িত্ব। ভুক্তভোগী প্রবাসী পরিবারটি এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
Rubel Ahmed