ঢাকা | বঙ্গাব্দ

গোয়াইনঘাটে কিশোর সুমন হত্যা: বিচারের দাবিতে উত্তাল রাজপথ, নেপথ্যের নায়কদের আড়ালের অভিযোগে জনরোষ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 18, 2026 ইং
গোয়াইনঘাটে কিশোর সুমন হত্যা: বিচারের দাবিতে উত্তাল রাজপথ, নেপথ্যের নায়কদের আড়ালের অভিযোগে জনরোষ ছবির ক্যাপশন: মানববন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়াইনঘাট (সিলেট): 
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুরে বন্ধুত্বের আড়ালে ঘাতকচক্রের হাতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া কিশোর সুমন আহমদের (১৭) খুনিদের ফাঁসি ও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। বুধবার (১৮ মার্চ) ফতেহপুর বাজারে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নিয়ে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে স্লোগানে স্লোগানে এলাকা প্রকম্পিত করেন।

বিচারের দাবিতে ফুঁসছে জনতা
ফতেহপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এখলাসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে স্থানীয় সামাজিক, রাজনৈতিক ও যুব সমাজের প্রতিনিধিরা সংহতি প্রকাশ করেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সুমনকে যেভাবে পশুর মতো জবাই করা হয়েছে, তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। এই জনপদে এমন জঘন্য অপরাধের কোনো ঠাঁই নেই।"

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে এজাহারভুক্ত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হয়, তবে গোয়াইনঘাটবাসী আরও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। কোনো প্রভাবশালী মহলের ইশারায় যদি প্রকৃত খুনিদের আড়াল করার চেষ্টা করা হয়, তবে সাধারণ মানুষ রাজপথে এর দাঁতভাঙা জবাব দেবে।"

মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ: "আমার কলিজার টুকরোকে ফিরিয়ে দাও"
মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন নিহত সুমনের মা সালমা বেগম। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি আর্তনাদ করে বলেন, "আমার শান্ত ছেলেটাকে ওরা ডেকে নিয়ে জবাই করলো। সে তো কারো ক্ষতি করেনি। আমি কোনো টাকা-পয়সা চাই না, শুধু আমার বুকের মানিক হত্যার বিচার চাই। যে হাত দিয়ে ওরা আমার ছেলেকে খুন করেছে, আমি সেই খুনিদের ফাঁসিতে ঝুলতে দেখতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার মতো আর কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়।"

পুলিশি তদন্ত নিয়ে গুরুতর অভিযোগ
নিহত সুমনের পিতা আনোয়ার হোসেন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, "ছেলের লাশ দাফন করার পর বিচার চাইতে গিয়ে আমাকে থানার দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে হয়েছে। মামলা করতে গিয়ে নানা হয়রানির শিকার হয়েছি। আমি স্পষ্টভাবে ৬ জনের নাম দিলেও পুলিশ রহস্যজনকভাবে ২ জনকে বাদ দিয়ে মাত্র ৪ জনের নামে মামলা রেকর্ড করেছে। কেন প্রকৃত আসামিদের আড়াল করা হচ্ছে?"

তিনি আরও জানান, প্রধান আসামি আশফাক সুমনের সহপাঠী ছিল এবং আশফাকের কিছু অপকর্মের সাক্ষী ছিল সুমন। এর জেরেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আনোয়ার হোসেন তার ছেলের খুনিদের বিচার নিশ্চিতে সিলেট জেলা পুলিশ সুপার এবং সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী মহোদয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ রাত ৮টার দিকে ফতেহপুর ইউনিয়নের বানিগ্রাম এলাকার একটি পোল্ট্রি ফার্ম থেকে সুমনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ও ডিবি অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্তসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে সুমনের পরিবারের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আরও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত রয়েছেন, যাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Rubel Ahmed

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ছাতকের বৌলায় রশি টান প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী

ছাতকের বৌলায় রশি টান প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী