অনলাইন ডেস্ক:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মেগা প্রকল্পগুলোতে দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলেই সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল বিকালে জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। বেলা সাড়ে ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট ছিল প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব। মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৬ বছরে জনগণের মুখে কথিত ছিল 'মেগা প্রকল্প মানেই মেগা দুর্নীতি'। বর্তমান সরকার সে আমলের অতিরিক্ত ব্যয়ের তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন মেগা প্রকল্প সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। যেসব প্রকল্পে অনিয়ম বা দুর্নীতির আলামত দেখা গেছে, সেগুলোকে ইতোমধ্যেই তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি জানান, বেশ কয়েকটি প্রকল্পের তদন্ত কাজ ইতোমধ্যেই শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের হাতে এলেই তাদের সুপারিশ ও পরামর্শ অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন মেগা প্রকল্প সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। যেসব প্রকল্পে অনিয়ম বা দুর্নীতির আলামত দেখা গেছে, সেগুলোকে ইতোমধ্যেই তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি জানান, বেশ কয়েকটি প্রকল্পের তদন্ত কাজ ইতোমধ্যেই শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের হাতে এলেই তাদের সুপারিশ ও পরামর্শ অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন: চট্টগ্রাম-১২ আসনের এমপি মোহাম্মদ এনামুল হকের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনায় ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শেষ করেছে সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর প্রকল্পের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডরের দূরত্ব হ্রাস করার লক্ষ্যে ঢাকা হতে কুমিল্লা পর্যন্ত কর্ডলাইন নির্মাণের উদ্দেশে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ চলমান আছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে দূরত্ব হ্রাস পাবে এবং গড় গতি বৃদ্ধি পাবে। তাই অল্প সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াত করা যাবে। তিনি বলেন, সরকার ঢাকা হতে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব পদক্ষেপের আওতায় টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে। তার মধ্যে, লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়া টঙ্গী-আখাউড়া ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন শেষ পর্যায়ে।
কৃষককে পাঁচ বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ-চালিত পানির পাম্প: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সেচকাজে ডিজেলচালিত পানির পাম্পের পরিবর্তে কৃষককে সৌরবিদ্যুৎ-চালিত পাম্প প্রদান করা হবে। মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে এ কথা জানান। জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্যের প্রশ্ন ছিল-সেচকাজে ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের পরিবর্তে কৃষককে বিনামূল্যে সোলার বিদ্যুৎ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না? উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে যেসব স্থানে ডিজেল দিয়ে পানির পাম্প চালানো হয় সবকটিকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আমরা সৌরবিদ্যুতের আওতায় নিয়ে যাব।' তাজউদ্দীন খানের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য বিকল্প জ্বালানি উৎস সম্প্রসারণে সরকারের কর্মপরিকল্পনাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'সরকার দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদার কথা বিবেচনা করে আমদানীকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ইতোমধ্যে ২০২৬ থেকে ২০০০ মেয়াদে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে।' সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সৌরবিদ্যুতের স্টোরেজের জন্য এখানে দুই ধরনের ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। একটি হচ্ছে লেড ব্যাটারি, যেটি নরমাল ট্র্যাডিশনের; আরেকটি হচ্ছে লিথিয়াম ব্যাটারি, যেটি পরিবেশবান্ধব।' তিনি বলেন, 'বর্তমান সরকার লিথিয়াম উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে।'
পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ: পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক এক পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম; পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটের ব্যবহার বৃদ্ধি, বায়ু-পানি-মাটি-শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ-বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সানিডেলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ পরিবেশ রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনে ছোট ছোট ভালো কাজ করার পরামর্শও দেন তিনি। গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে সানিডেলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংসদের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার সুযোগের অংশ হিসেবে গতকাল সংসদে আসেন রাজধানীর ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল সানিডেলের ১২৪ জন শিক্ষার্থী। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন ১৪ জন শিক্ষক। সংসদ অধিবেশন আসরের নামাজের বিরতির সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের পড়াশোনা এবং স্বাস্থ্যসহ নানা বিষয়ে খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা, জনস্বাস্থ্য ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের করণীয় নিয়েও কথা বলেন।
পরিবেশ রক্ষায় সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশের পরিবেশ সুন্দর ও সবুজ করতে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের উদ্যোগ নিয়েছি। এ উদ্যোগে তোমাদেরও অংশগ্রহণ করা উচিত। পরিবেশ ঠিক রাখতে তোমাদের বাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমনকি তোমাদের আত্মীয়স্বজনদের বাসার আশপাশেও গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। যেকোনো বিশেষ আয়োজন; সেটা তোমাদের জন্মদিন কিংবা অন্য কোনো বিশেষ দিন উপলক্ষে একে অন্যকে গাছ উপহার দিতে পারো। এভাবে গাছ উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
Rubel Ahmed