ডেক্স নিউজ :
সিলেটের গোয়াইনঘাটে বেড়ানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে আবুল হাসান জুবেল (সাবেক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী) নামের এক ব্যক্তিকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অপহৃতের সন্ধান ও তাকে উদ্ধারের দাবিতে ৩ বছরের সন্তানকে কোলে নিয়ে গোয়াইনঘাট থানার আশপাশে অসহায়ভাবে ঘুরছেন তার স্ত্রী আমিনা আক্তার জবা।
অপহৃত আবুল হাসান জুবেল গোলাপগঞ্জ উপজেলার এতিমগঞ্জ কোনারছড় মুল্লাবাড়ির মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে। তিনি ২০১৬ সালে ব্রেইন স্ট্রোক করার পর বিমান বাহিনীর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের চাকরি ছেড়ে চলে আসেন। বর্তমানে তারা সিলেট নগরীর আম্বরখানার গোল্ডেন টাওয়ারের একটি বাসায় বসবাস করছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার গোয়াইনঘাট থানার ২নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের মনাইকান্দি আলী ছড়া গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে মুজাম্মিল আহমদ (৩০) বেড়ানোর কথা বলে জুবেলকে তার আম্বরখানার বাসা থেকে গোয়াইনঘাটে নিয়ে যায়। পরের দিন শুক্রবার বিকাল ২টার দিকে মুজাম্মিল অপহৃতের স্ত্রী আমিনা আক্তার জবাকে ফোন করে জানান যে তার স্বামী অসুস্থ, তাই তাকে দ্রুত গোয়াইনঘাটে আসার জন্য বলা হয়। স্বামীর অসুস্থতার খবর শুনে আমিনা আক্তার জবা রওনা দিলে পথিমধ্যে মুজাম্মিল আবারও ফোন করে সুর পাল্টায়। সে জানায়, জুবেল অসুস্থ নয়, বরং তাকে জিম্মি করা হয়েছে। হাদারপার এলাকার একটি দোকানে নগদ ৫ লাখ টাকা অথবা সমপরিমাণ টাকার একটি চেক নিয়ে আসলে তবেই জুবেলকে ছাড়া হবে।
মুক্তিপণের টাকা না দিলে জুবেলকে প্রাণে মেরে লাশ ইন্ডিয়ায় (ভারতে) ফেলে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয় মুজাম্মিল। এছাড়া বিষয়টি পুলিশ বা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে জুবেলের গলা কেটে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়।
স্থানীয় সালিশি বৈঠক ও আইনি পদক্ষেপ
ঘটনার পর নিরুপায় হয়ে স্ত্রী আমিনা আক্তার জবা মুজাম্মিলের বাড়িতে যান। সেখানে স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) জালাল উদ্দিনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। তবে মুজাম্মিল ও তার পরিবার এতে অস্বীকৃতি জানালে সালিশকারীরা ব্যর্থ হন এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন। আমিনা আক্তার জবা অভিযোগ করেন, মুজাম্মিলের ভাই মোবারকও তাকে টাকা দিয়ে স্বামী নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন।
কোনো উপায় না পেয়ে অবশেষে আমিনা আক্তার জবা পুলিশের দ্বারস্থ হন। বর্তমানে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে এবং পুলিশ জুবেলকে উদ্ধারে কাজ করছে।
অভিযুক্তের অতীত অপরাধের রেকর্ড
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মুজাম্মিল আহমদ ভারতীয় মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের সীমান্ত চোরাকারবারির সাথে জড়িত। এর আগেও সে একই কায়দায় একাধিক মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে ৩ বছরের একমাত্র সন্তানকে কোলে নিয়ে স্বামীকে জীবিত ফেরত পাওয়ার আকুতি জানিয়ে গোয়াইনঘাট থানা ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় স্ত্রী আমিনা আক্তার জবা।
Rubel Ahmed