ডেক্স নিউজ: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১০নং পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের নাইন্দার হাওর মৌজায় পৈতৃক ভূমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় মঙ্গলবার (১২মে ২০২৬) বার্কিপুর গ্রামের হুসন আহমদের পুত্র বেলাল আহমদ বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বিবাদী হিসেবে বাউরবাগ হাওর এলাকার রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার, দুলাল তালুকদার ও সিরাজুল তালুকদারসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিবাদীগণ দীর্ঘদিন ধরে নাইন্দার হাওর মৌজায় বাদীর মালিকানাধীন ভূমি থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছেন। এতে পাশের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। এর আগে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার বালু উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়ার পর ১২ মে ২০২৬ সকালে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রায় ৬ লক্ষ টাকার বালু অবৈধভাবে লুটে নেয় বিবাদীরা। এসময় বাধা দিতে গেলে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদী বেলাল আহমদ বলেন, "তারা এলাকার চিহ্নিত বালু খেকো। আমাদের পৈতৃক জমি থেকে জোরপূর্বক বালু তুলে নিচ্ছে। বাধা দিলে তারা দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখায়। বর্তমানে আমরা জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।"
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে প্রধান বিবাদী রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পাল্টা দাবি করে তিনি বলেন, "আমি আমার নিজের জায়গা থেকে নিয়ম মেনে রয়েলিটি দিয়েই বালু উত্তোলন করছি। এখানে প্রশাসন ম্যানেজ করে বালু উত্তোলন চলে, রয়েলিটি পাটি রয়েলিটি নিতেছে। আপনারা সাংবাদিক মানুষ খোঁজ নিয়ে দেখবেন। ইজারা বহির্ভুত জায়গায় লাখ লাখ বালু অলরেডি স্টক হয়েগেছে। উল্টো অভিযোগকারী বেলাল আহমদ তার দলবল নিয়ে আমার ভাই ও শ্রমিকদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছেন। তারা আমাদের ফাঁসাতে তাদের অস্ত্র আমার নৌকায় রেখে নাটক সাজানোর চেষ্টা করছেন। হামলায় আমার তিনজন লোক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।"
এলাকায় এই ঘটনা নিয়ে বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উক্ত তপশীল বর্ণিত জমি ইজারা বহির্ভুত। যা সরকার কর্তৃক কোন ইজারা দেওয়া হয়নি এবং সেখানে বালু উত্তোলন সম্পুর্ন অবৈধ ও বেআইনি।
গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তপশীল বর্ণিত ভূমি:
জেলা: সিলেট, থানা: গোয়াইনঘাট, মৌজা: নাইন্দার হাওর। এলএসটি নং- ৫৮১/৬৭-৭০, এলএসপি নং- ৬১৩, ৬৯-৭০। মোট জমির পরিমাণ ৩.৩১০০ একর।
Rubel Ahmed