নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়াইনঘাট:
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার গুরকচি-সিটিংবাড়ি সড়কের বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ এখন চরমে। দীর্ঘ ৩-৪ বছর আগে সড়কটির উন্নয়নের জন্য টেন্ডার হলেও কাজ শেষ না করে মাঝপথে ফেলে রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে সংস্কারের বদলে সড়কটি এখন জনসাধারণের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
আজ রবিবার (২৬ এপ্রিল) সড়কটির এই নাজুক অবস্থা পরিদর্শনে যান গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী এবং উপজেলা প্রকৌশলী (ইঞ্জিনিয়ার) হাসিবুর রহমান। পরিদর্শনকালে এক পর্যায়ে সড়কের অতিরিক্ত কাদায় আটকে পড়ে প্রকৌশলী হাসিবুর রহমানের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি। পরে স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কাদা থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাটি সড়কের বর্তমান বেহাল অবস্থার এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩-৪ বছর আগে গুরকচি-সিটিংবাড়ি সড়কটির উন্নয়নের কাজ পায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজ শুরু করে সড়কটি খুঁড়ে অনেকটা 'খালকরণ' করে ফেলে রাখা হয়। এরপর দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও কাজ সম্পন্ন করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে হাঁটু সমান কাদা জমে যায়, যা এই অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খামখেয়ালিপনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে কয়েক বছর ধরে তারা অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগ করছেন। আজ পরিদর্শনে আসা কর্মকর্তাদের গাড়ি আটকে যাওয়ার ঘটনাই প্রমাণ করে সাধারণ মানুষের চলাচলের পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ। পরিদর্শনকালে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রতন কুমার অধিকারী এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, শিঘ্রই জনগনের কস্টের কথা চিন্তা করে একটা বিহিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মন্ত্রী মহোদয় কে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি: ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী অবিলম্বে সড়কটির কাজ পুনরায় শুরু করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা চলাচলের উপযোগী করার জোর দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
Rubel Ahmed