নিজস্ব প্রতিবেদক,গোয়াইনঘাট (সিলেট):
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ণানগর পুরান জামে মসজিদের মাঠ ইট সলিং উন্নয়ন প্রকল্পে পিআইও’র বরাদ্দ করা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। বরাদ্দের পুরো টাকা মসজিদ কমিটিকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ণানগর পুরান জামে মসজিদের মাঠ ইট সলিং উন্নয়নের জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮০ হাজার টাকা মসজিদের মোতাওয়াল্লী বাদলকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ১০নং পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লুৎফুর রহমান। তবে বাকি ৪০ হাজার টাকা মসজিদ কমিটিকে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য লুৎফুর রহমান বলেন, “আমি বরাদ্দের ৮০ হাজার টাকা নগদে মসজিদের মোতাওয়াল্লী বাদলকে বুঝিয়ে দিয়েছি। এছাড়া আমার কাছ থেকে তিনি ১ হাজার ইট নিয়েছেন। এসব ইটের বাবদ ১৩ হাজার টাকা মসজিদের বরাদ্দের খাত থেকে কেটে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম আম্বিয়া কয়েছ মসজিদ কমিটির পক্ষে আমার কাছ থেকে আরও ৭ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন। সব মিলিয়ে মসজিদের জন্য আমি ১ লাখ টাকা দিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, বরাদ্দের টাকা যে কাজের জন্য দেওয়া হয়েছিল, সেই অনুযায়ী কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। বরাদ্দের অর্থের যথাযথ ব্যবহার ও প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
এদিকে ১ হাজার ইট নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন মসজিদের মোতাওয়াল্লী বাদল। বাকী ৭ হাজার টাকার বিষয়ে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম আম্বিয়া কয়েছ এর সাথে যোগাযোগ করার চেস্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাধন কান্তি বলেন, “আমরা কাজ সম্পূর্ণ দেখে প্রকল্প সভাপতিকে বিল দিয়ে দিয়েছি। এখন মসজিদ কমিটি বলছে, কাজটি তারা করেছে, তাই মেম্বার তাদের টাকা দেওয়ার কথা। কিন্তু মেম্বার টাকা দিচ্ছেন না। এটা তাদের ইন্টার্নাল বিষয়। এখানে অফিসের কিছু করার নেই।”
মসজিদ কমিটির অভিযোগ, বরাদ্দের পুরো অর্থের হিসাব ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে বরাদ্দের অর্থের সঠিক ব্যবহার ও প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
Rubel Ahmed