নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়াইনঘাট (সিলেট): মাত্র একটি দামি স্মার্টফোনের লোভে এক স্কুলছাত্রকে কৌশলে সীমান্ত পার করে ভারতে নিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে তারই কয়েকজন সহপাঠী। ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে ফেলে গেলেও, সৌভাগ্যক্রমে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন ওই শিক্ষার্থী।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি সীমান্ত এলাকায়। রবিউল ইসলাম এর পরিবারের সাথে আলাপ করে জানা যায়, সোমবার (১১ মার্চ) বিকাল অনুমান ৩টায় বিছনাকান্দি সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর নাম রবিউল ইসলাম (১৪)। সে গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের বগাইয়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে এবং স্থানীয় কুপার বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রবিউলের কাছে একটি দামি 'আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স' মডেলের মোবাইল ফোন ছিল। বেশ কিছুদিন ধরেই এই ফোনটির ওপর নজর পড়েছিল তার কয়েকজন সহপাঠীর। দামি এই ফোনটি হাতিয়ে নিতে তারা এক ভয়ংকর ছক কষে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বন্ধুদের সাথে ঘোরাঘুরির কথা বলে এবং বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তারা রবিউলকে কৌশলে বিছনাকান্দি সীমান্ত দিয়ে ভারতে নিয়ে যায়।
সীমান্তের ওপারে সুবিধাজনক একটি স্থানে পৌঁছানোর পর ওই সহপাঠীরা রবিউলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তারা রবিউলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। একপর্যায়ে রবিউল গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে, তাকে মৃত ভেবে আইফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারী সহপাঠীরা।
তবে সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে রবিউল অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায়। পরবর্তীতে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
মাত্র একটি মোবাইল ফোনের জন্য বন্ধুদের এমন নৃশংস ও পরিকল্পিত হামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী রবিউলের পরিবার এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।
Rubel Ahmed