ঢাকা | বঙ্গাব্দ

গোয়াইনঘাটে জমি সংক্রান্ত বিরোধে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ রক্তাক্ত জখম ৩, ওসমানী মেডিকেলে ভর্তি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 29, 2026 ইং
গোয়াইনঘাটে জমি সংক্রান্ত বিরোধে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ রক্তাক্ত জখম ৩, ওসমানী মেডিকেলে ভর্তি ছবির ক্যাপশন: বিরুধপূর্বক জায়গা ও জখমীদের ছবি
ডেক্স নিউজ :
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১০নং পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের বার্কিপুর গ্রামে জমি ও রাস্তা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ওমান প্রবাসী মনির উদ্দিনের স্ত্রী মোছাঃ ফাতেহা বেগম (৩৫) নামে এক ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং তাঁর দুই ভাশুড় ইমাম উদ্দিন ও জলাল উদ্দিন গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ইমাম উদ্দিন ও জলাল উদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গত বুধবার (২৭ মে) বেলা অনুমান ১১টার দিকে বার্কিপুর গ্রামের কাঁচা রাস্তার ওপর এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ফাতেহা বেগম বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে বিবাদী করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এদিকে অভিযোগের তিন দিন অতিবাহিত হলেও কোন আইনী ব্যবস্থা নেও হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। 

অভিযোগের বিবরণ:
থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বার্কিপুর গ্রামের বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন, বিলাল উদ্দিন, রিয়াজ উদ্দিন ও নাজিম উদ্দিন গংদের সাথে ফাতেহা বেগমের পরিবারের বসতবাড়ির সীমানা ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। ভুক্তভোগীদের দাবি, বিবাদীপক্ষ প্রায়ই তাঁদের সীমানার বাঁশ ও প্লাস্টিকের নেটের বেড়া ভাংচুর ও জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিল। গত বুধবার সকালে বিবাদীপক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ফাতেহা বেগমের বাড়ির সীমানার বেড়া উপড়ে ও কেটে ভাংচুর শুরু করে। এতে ফাতেহা বেগম বাধা দিলে বিবাদী আলিম উদ্দিনের হুকুমে সাজু আহমদ, রাজু আহমদসহ অন্য আসামিরা তাঁর ওপর চড়াও হয়। লোহার এঙ্গেল ও পাইপের আঘাতে ফাতেহা বেগমের ডান পায়ের পাতা ভেঙে যায় এবং চুল ধরে টানাটানি করে শ্লীলতাহানি করা হয়। এ সময় তাঁর পেটে লাথি মারলে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এই নারীর শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ফাতেহা বেগমের চিৎকার শুনে তাঁকে বাঁচাতে ভাশুড় ইমাম উদ্দিন ও জলাল উদ্দিন এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও ধারালো দা, ডেগার ও লোহার পাইপ নিয়ে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। ধারালো দায়ের কোপে ইমাম উদ্দিনের দুই হাত এবং বিলাল উদ্দিনের ডেগারের আঘাতে পিঠ ও বাম হাঁটু গুরুতর জখম হয়। অপর ভাশুড় জলাল উদ্দিনকে রিয়াজ ও নাজিম উদ্দিন দা দিয়ে কুপিয়ে এবং সাজু আহমদ লোহার এঙ্গেল দিয়ে পিটিয়ে কোমর ভেঙে দেয়। হামলাকারীরা জলাল উদ্দিনের কাছে থাকা নগদ ১৬,৬০০ টাকাও ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভাংচুরে আনুমানিক ১২,০০০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে অন্তঃসত্ত্বা ফতেহা বেগমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে বলা হয়। তবে ইমাম উদ্দিন ও জলাল উদ্দিনের অবস্থা মরণাপন্ন হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

বিবাদী পক্ষের বক্তব্য:
এ বিষয়ে বিবাদী গিয়াস উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মারামারির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "যে জায়গা নিয়ে বিরোধ, তা আমাদের দুই পক্ষেরই জায়গা। আগামী শনিবার (৩০ মে) আমার চাচাতো বোনের বিয়ে। বুধবার সকালে রাস্তায় কাদা থাকায় মেহমানদের চলাচলের সুবিধার্থে আমরা কয়েকজন বস্তায় বালু ভর্তি করে দিতে গিয়েছিলাম। তখন ফাতেহা গংরা আমাদের ওপর চড়াও হয়। কোনো কথা না বলেই ইমাম উদ্দিন পেছন থেকে এসে আমার মাথায় বাঁশ দিয়ে আঘাত করে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি সৃষ্টি হয়। আমার মাথায়ও গুরুতর জখম রয়েছে। আমরাও আইনানুযায়ী থানায় অভিযোগ দিয়েছি এবং সুষ্ঠু বিচার চাই।"

গ্রামবাসীর বক্তব্য:
এলাকার মুরব্বিরা জানান, ফাতেহা বেগম ও গিয়াস উদ্দিনদের মধ্যে জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। মুরব্বিরা বলেন,"আমরা সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বারবার বিষয়টি সমাধান করে দিলেও পুনরায় গিয়াস উদ্দিন গং আবার তথায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তারা খুবই উশৃঙ্খল প্রকৃতির। ইতিপূর্বে অবাধ্যতার কারণে তাদের সমাজচ্যুত করা হয়েছিল, পরে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে তারা সমাজে ফেরে। বুধবারের সংঘর্ষের ঘটনায় আমরা আইনের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার চাই।"

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, অভিযোগ প্রাপ্তির পর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ তৎপর রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Rubel Ahmed

কমেন্ট বক্স
লিবিয়া থেকে গ্রীস যাওয়ার পথে সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার ১১ জনের

লিবিয়া থেকে গ্রীস যাওয়ার পথে সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার ১১ জনের