প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 7, 2026 ইং
গোয়াইনঘাটে সীমানা বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা-লুটপাট, থানায় অভিযোগ

ডেক্স নিউজ :
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের তারুখাল গ্রামে জমি সংক্রান্ত সীমানা বিরোধের জেরে এক ব্যাবসায়ীর বসতবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মারধর, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুটপাটের পাশাপাশি এক গৃহবধূর শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী হারুনুর রশিদ (৬৩) বাদী হয়ে একই গ্রামের আব্দুল হান্নান, আব্দুল মন্নানসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে বিবাদী করে গোয়াইনঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারুখাল গ্রামের বাসিন্দা হারুনুর রশিদের সঙ্গে প্রতিবেশী আব্দুল হান্নান ও আব্দুল মন্নান গংদের বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ইতিপূর্বে স্থানীয় সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণ করে দুটি পাকা খুঁটি বসানো হলেও হারুনুর রশিদের মনে সন্দেহ থেকে যায়। এরই প্রেক্ষিতে গত ৩ জুন বিকেলে স্থানীয় সার্ভেয়ার মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে পুনরায় সীমানা নির্ধারণের জন্য মাপজোক করতে যান তিনি। মাপজোকের একপর্যায়ে সার্ভেয়ার ও হারুনুর রশিদ ফিতা নিয়ে বিবাদীদের সীমানায় অবস্থান করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও তর্কবিতর্ক সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিবাদী পক্ষ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হারুনুর রশিদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় শ্বশুরকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে পুত্রবধূ রোকসানা বেগমকেও (২৮) পিটিয়ে জখম করা হয় এবং শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় বিবাদীরা গৃহবধূর গলা থেকে আনুমানিক ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন এবং একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া উদ্ধার করতে আসা সার্ভেয়ার মোহাম্মদ আলীকেও মারধর করে তার পকেট থেকে নগদ ২৬ হাজার ৮০ টাকা লুটে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
ভুক্তভোগী হারুনুর রশিদ জানান, তার ছেলে প্রবাসে থাকায় তিনি স্ত্রী ও পুত্রবধূকে নিয়ে বাড়িতে থাকেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, "বিবাদী পক্ষ অত্যন্ত দাঙ্গাবাজ ও ভূমি আত্মসাৎকারী প্রকৃতির। থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত তা মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি। বর্তমানে আমার পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমি এই নৃশংস হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।"
এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়াইনঘাট থানার এএসআই জাকির হোসেন বলেন, "অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং বিষয়টি সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে থানায় হাজির হতে বলেছি। তবে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ অনুযায়ী তেমন বড় কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিবাদী পক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক উত্তর সিলেট ২০২৬