প্রিন্ট এর তারিখঃ May 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 8, 2026 ইং
বিরামপুরে আবাসিক হোটেলে অভিযান: কিশোর গ্যাংয়ের ৬ সদস্যসহ ৭ জন আটক

মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর শহরের ধানহাটি মোড়ে অবস্থিত সানভিউ ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক হোটেলে অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে হোটেলটির ম্যানেজারকে জরিমানা এবং চাঁদাবাজি ও প্রতারণার ঘটনায় জড়িত ৭ জনকে আটক করা হয়েছে
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে হোটেলটির ম্যানেজার আনারুল হককে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৯১ ধারায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিয়া নওরিন। এ সময় আদালতের পেশকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিলকাদ হোসেন (নাজির) এবং অভিযানে সহযোগিতা করেন বিরামপুর থানা পুলিশের সদস্য
আটককৃতরা হলেন—নবাবগঞ্জ থানার মতিহারা গ্রামের মোঃ মুশফিকুর রহমানের ছেলে মোঃ ওমর ফারুক (২৩), হাকিমপুর থানার ০১ নং খট্টামাধবপুর ইউনিয়নের চৌধুরী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মোঃ মুশফিকুর রহমান ওরফে সুলতানের ছেলে মোঃ শাহাদাত হোসেন (১৮+), মৃত সামছুল হকের ছেলে মোঃ রহমতুল্লাহ ওরফে বাবু (১৮+), মোঃ রায়হান কবীরের ছেলে মোঃ সজীব আরাফাত (১৮+), মোঃ বেলাল হোসেনের ছেলে মোঃ শহিদ (১৮+), বিরামপুর থানার ০৭ নং ওয়ার্ডের কলেজবাজার এলাকার আমিনুর ইসলামের ছেলে মোঃ সাহেদুজ্জামান শিফাত (১৮+) এবং ০৮ নং ওয়ার্ডের দাশারা এলাকার মোঃ রায়হানের ছেলে মোঃ রাহাদ (১৮+)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৭ জন জড়িত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলি
বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে এক নম্বর আসামি মোঃ ওমর ফারুক ছাড়া বাকি ৬ জন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য
পুলিশ জানায়, আসামিদের মধ্যে সাহেদুজ্জামান শিফাত একটি স্বর্ণের দুল বিরামপুর পুরাতন বাজারের সোনাপট্টিতে প্রায় ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। পরে পুলিশ সেটি উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের পরিমাণ আনুমানিক ১.১৫ আনা, যার মূল্য প্রায় ২০ হাজার টাকা। এছাড়া আসামিদের কাছ থেকে ৭টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়ে
তদন্তে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত কিশোর গ্যাং সদস্যরা ওই হোটেলে গিয়ে একটি যুগলের ভিডিও ধারণ করে এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তারা ভুক্তভোগীর স্বর্ণের দুল ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নে
থানা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী একজন বিবাহিত এবং তার একটি পাঁচ বছরের সন্তান রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ও প্রধান আসামি ওমর ফারুক একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে বিরামপুর থানায় বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছে
বিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, আটক ৭ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক উত্তর সিলেট ২০২৬