প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 27, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 10, 2026 ইং
গোয়াইনঘাটে কৃষি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়: প্রশাসনের নীরবতায় প্রকাশ্যে ফসলি জমি ধ্বংস

বিশেষ প্রতিনিধি:
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দিরগাঁও ইউনিয়নে কৃষি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় পাহাড় গড়ে তোলার মহোৎসব চলছে। আইন অমান্য করে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে ফসলি জমির বুক চিরে উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল) দেদারসে পাচার করা হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতার সুযোগে এই ধ্বংসযজ্ঞ এখন চরমে পৌঁছেছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দিনরাত ভেকু দিয়ে কৃষি জমি খনন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবৈধ মাটি কাটা নিয়ে পুলিশের নীরব ভুমিকার কারণেই প্রকাশ্যে ফসলি জমি ধ্বংস করা হলেও কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ইউনিয়নটির প্রায় ১১টি ইটভাটায় কৃষিজমি থেকে লুটে নেওয়া মাটি দিয়ে কৃত্রিম পাহাড় তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে সোনার বাংলা এলাকার ‘সোনালী ব্রিক ফিল্ড’-এ মাটির স্তূপ এখন হিমালয় সদৃশ।
এদিকে সরেজমিনে সোনার বাংলা ব্রিক ফিল্ডে গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত হয়ে ব্রিক ফিল্ডের বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পায়। ব্রিক ফিল্ডের মালিক দীর্ঘ এক সপ্তাহ অতিবাহিত হয়ে গেলেও কোন কাগজ দৃশ্যমান করাতে পারেননি। এছাড়া সালুটিকর রোড সংলগ্ন রূপালী, পূবালী, এফবিসি-সহ সবকটি ব্রিক ফিল্ডেই দেখা গেছে মাটির বিশাল মজুদ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিত্রি মহল এলাকায় অবস্থিত ‘আদর্শ ব্রিক ফিল্ড’ ও আশপাশের ভাটায় মাটি সরবরাহের নেপথ্যে রয়েছে একটি প্রভাবশালী চক্র। স্থানীয়দের দাবি, মিত্রি মহল গ্রামের বাসিন্দা আতাই মেম্বারের ছেলে ফরিদ আহমদের নেতৃত্বে হেলাল মিয়া ও নাছির মেম্বারসহ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। আদর্শ ব্রিক ফিল্ডের ম্যানেজার মাটি ক্রয়ের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "ফরিদ ভাই আমাদের কাছে মাটি বিক্রি করেন। আমরা শুধু টাকা দিয়ে সেই মাটি ক্রয় করি।" কৃষি জমি ধ্বংসের এই ভয়াবহ চিত্র নিয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক জানান, কৃষি অফিসের লোকজন এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত অভিযান চালানো হবে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। "ফসলি জমি আমাদের অন্ন জোগায়। এভাবে মাটি কেটে নিলে ভবিষ্যতে এই এলাকায় মরুভূমি হয়ে যাবে। আমরা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।" হতাশ একাধিক স্থানীয় কৃষক।
অবস্থা বেগতিক দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা এখন কৃষি জমি রক্ষায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক উত্তর সিলেট ২০২৬